

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু, জুলুম-নির্যাতন ও হুমকিকে উপেক্ষা করে বছরের পর বছর নিপীড়িত নেতা-কর্মী ও মজলুম মানুষের পক্ষে আদালতে নির্ভীক আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন এক অভিভাবকসুলভ মানুষ—এ্যাডভোকেট গাজী ইনামুল হক। আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভয়ভীতি, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মুখেও তিনি আদালত অঙ্গনে জীবন বাজি রেখে মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছিলেন অবিচল ও আপসহীন।
জীবনের পড়ন্ত বয়সেও তিনি যেন এক তরুণ—দৃপ্ত, অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা। অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্য কোনো কিছুই তাঁর চলার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। যশোর আইনজীবী সমিতিতে তাঁর অবস্থান কেবল সিনিয়রিটির কারণে নয়; বরং সাহসী ও ন্যায়ভিত্তিক আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি আজ একটি সুপরিচিত ও শ্রদ্ধার নাম—এ্যাডভোকেট গাজী ইনামুল হক।
বাম রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই বিজ্ঞ আইনজীবী কেবল আদালতকেন্দ্রিক নন; বরং তিনি একজন প্রাজ্ঞ ইসলামী চিন্তাবিদ ও খ্যাতিমান দায়ী ইলাল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে তিনি নিজেকে ইসলামের খেদমতে নিবেদিতপ্রাণ একজন ওয়ায়েজ ও চিন্তাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
জুলাই বিপ্লবে খুনি হাসিনার পলায়নের পর যখন একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশজুড়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে লিপ্ত হয়, তখন এ্যাডভোকেট গাজী ইনামুল হক মনিরামপুরের গ্রাম-গঞ্জে ছুটে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় ঘোষণা দেন। এতে তিনি দ্রুতই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছিল, বিশেষ মহলের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছিল—তখন তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্ল্যাটফর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন—
“সকল ধর্মের মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগ করবে।”
ফ্যাসিস্ট আমলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ওপর চালানো হামলা, মামলা, জুলুম ও নির্যাতনের জবাবে তিনি প্রতিশোধের পথে হাঁটেননি। বরং তিনি ক্ষমা, সবর ও সহাবস্থানের শিক্ষা দিয়ে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নিঃসন্দেহে বলা যায়—ত্রাস ও দুঃশাসনের অমানিশার দিনগুলোতে ইসলামী আন্দোলনের পতাকাকে সমুন্নত রেখে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মর্যাদা বিরোধী মহলের কাছেও এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে নিরলসভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন। প্রতিদিন গণসংযোগে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন।
প্রতিটি পথসভা ও সুধী সমাবেশে তিনি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন এবং সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করছেন—
“আগামী বাংলাদেশে আর কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বিচারের নামে প্রহসনে ফাঁসিতে ঝুলবে না।”
তিনি প্রতিজ্ঞা করছেন—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে থাকবে না গুম-খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাস্তানী ও ভোট ডাকাতি।
আজ তিনি নির্ভীক কণ্ঠে ঘোষণা দিচ্ছেন—ফ্যাসিবাদ ও নতুন দানবীয় শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি নিরলসভাবে ছুটে চলেছেন জনমানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের পথে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাঁর সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও ইসলামী খেদমতের যথার্থ মূল্যায়ন করবে এবং তাঁকে জনগণের প্রকৃত অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করবে—ইনশাআল্লাহ।
লেখক- মোঃ শফিউল্লাহ
