

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে। কায়েমকোলা বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স কায়েমকোলা ফিলিং স্টেশন’-এ নিয়ম না মেনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, পুলিশ, চাকরিজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের কথা বলা হয়। নির্ধারিত লাইনে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব শ্রেণির মানুষকে তেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কায়েমকোলা ফিলিং স্টেশনে ওই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের তেল না দিয়ে উল্টো রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে সাধারণ ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হেলমেট, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এক পল্লী চিকিৎসা জানান ইউএনও মহোদয় আমাদেরকে জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত করে যে বিজ্ঞাপতি দিয়েছে তা মান্য করছে না তেল পাম্প কতৃপক্ষ। আমাদের জন্য আলাদা কোনো লাইনের ব্যবস্থা নাই এমনকি তেল চাইতে গেলে বলে ২ ঘণ্টা দেরি হবে।
ফুলবাড়ি থেকে তেল নিতে আসা বাপ্পি হোসেন জানান,আমরা সকাল ৫ টায় এসে লাইন দিয়েছি এখন ১১ টা বেজে গেছে তাও আমরা তেল পাই নাই অন্যদিকে দলের প্রভাব ও বাজার কমিটির নির্দেশে মুখ দেখে তেল দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এভাবে তেল বিক্রি চলতে থাকলে সংকট আরও বাড়বে এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ভোগান্তিতে পড়বেন। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
