

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ঘোড়দাহ গ্রামের একটি মসজিদ থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির অভিযোগ উঠেছে প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা ও মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক ফিরোজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট (শনিবার) ঘোড়দাহ গ্রামের ওই মসজিদে আয়োজিত একটি সিরাত মাহফিলে ওয়াজ করতে আসেন মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক ফিরোজী। মাওলানা জাহাঙ্গীর বিন ইয়াকুবের আমন্ত্রণে তিনি ওই মাহফিলে অংশ নেন।
স্থানীয়দের দাবি, পরদিন ৩০ আগস্ট মাওলানা ফিরোজীকে মসজিদের ছাদে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় তিনি সেখানে কী করছেন জানতে চাইলে মসজিদের ইমামের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বলে জানান বলে দাবি স্থানীয়দের।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর মাগরিবের নামাজের সময় তিনি আবারও মসজিদে আসেন বলে স্থানীয় মুসল্লিরা জানান। নামাজ শেষে অন্যান্য মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও তিনি কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন। পরে এক ব্যক্তি তাকে একটি প্যাকেট নিয়ে মোটরসাইকযোগে মসজিদ এলাকা থেকে চলে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এশার নামাজের সময় মুসল্লিরা মসজিদে এসে মেঝেতে এসিডসদৃশ একটি তরল পদার্থ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মসজিদের আইপিএসের ব্যাটারি খুঁজতে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি বলে জানান তারা।
মসজিদের ক্যাশিয়ার আক্তারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ব্যাটারি ফিরোজ চুরি করেছে—এটা আমরা দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।”
এদিকে মাওলানা ফিরোজীকে সিরাত মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া মাওলানা জাহাঙ্গীর বিন ইয়াকুব বলেন, “ফিরোজ আমার পূর্বপরিচিত। সেই কারণে তাকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আগে তার বিষয়ে এসব তথ্য জানতাম না। এখন জানতে পেরেছি, এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক ফিরোজীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি ক্ষতিপূরণ দেব।” এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক ফিরোজী যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রাণীয়ালি গ্রামের আকবর হোসেনের সন্তান।
তবে মসজিদের আইপিএস ব্যাটারি চুরির অভিযোগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
ঘটনাটি নিয়ে ঘোড়দাহ গ্রামের স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
