

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম বৃহৎ ফুল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র যশোরের ঝিকরগাছার গদখালীতে দীর্ঘদিনের দাবি গদখালী রেলস্টেশন সংস্কার, পুনরায় চালু এবং যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাবিরতির উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পাশাপাশি রেলস্টেশনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ও সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানাসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রেলওয়ের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে দুই সংসদ সদস্য গদখালী রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন। পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে এলজিইডি নির্মিত বাংলাদেশ-আমেরিকা সৌহার্দ্য ফুল বিপণন কেন্দ্রের হলরুমে ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা।
সভায় গদখালী রেলস্টেশন সংস্কার ও চালু, যাত্রীবাহী ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি এবং ফুল পরিবহনে রেলওয়ের মাধ্যমে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক গদখালী রেলস্টেশন চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি নথিপত্রে গদখালী রেলওয়ে স্টেশনের পরিবর্তে ‘পানিসারা রেলওয়ে স্টেশন’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও পানিসারায় কোনো রেলস্টেশন না থাকায় কার্যক্রমটি স্থগিত হয়ে যায়। তবে বিষয়টি সমাধানে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডা. ফরিদ বলেন, গদখালী রেলস্টেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, কারিগরি যাচাই ও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। দুই সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্টেশনটি চালুর কার্যকর ব্যবস্থা করা যায়।
সাবিরা সুলতানা বলেন, গদখালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলস্টেশন সংস্কার ও ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন। এতদিন এ দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা না গেলেও বর্তমানে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গদখালী রেলস্টেশন চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। রেলওয়ের প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফুল রপ্তানি প্রসঙ্গে সাবিরা সুলতানা বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে গদখালীর ফুল বিদেশে রপ্তানির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রপ্তানি আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় স্থানীয় ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, গদখালী শুধু যশোর নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। উৎপাদিত ফুল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
তাদের মতে, গদখালী রেলস্টেশন সংস্কার করে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই সহজ হবে না, ফুল পরিবহনেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। রেলপথে দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে ফুল পরিবহন করা গেলে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত ফুল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ফুলচাষীরা তাই রেলস্টেশনের অবকাঠামো সংস্কার, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন, নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং ফুল পরিবহনে রেলওয়ের বিশেষ সুবিধা চালুর দাবি জানান।
সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম, ডিভিশন কমিউনিকেশন অফিসার হাসিনা খাতুন, ঝিকরগাছা ইউএনও এম. সাইফুল্লাহ, ঝিকরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ফুলচাষী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রেলওয়ের প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শন ও দুই সংসদ সদস্যের যৌথ উদ্যোগকে ঘিরে গদখালীর ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
