

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন— দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমআরএ) সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সময়ের আলোর রিপোর্টার মাহবুব আলম শ্রাবণ, জাগো নিউজের রিপোর্টার রাকিব হাসান ও ভিডিও জার্নালিস্ট শাহরিয়ার রাকিব, বাংলানিউজের রিপোর্টার সাইমুম মুবিন পল্লব এবং ঢাকা পোস্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহমুদ আল মামুন মারুফ।
আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের সোহাগ নামের এক কর্মী সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ফুটেজ ধারণে বাধা সৃষ্টি করেন। তাকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালে তিনি তা উপেক্ষা করে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহাগ ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এবং ফটো জার্নালিস্ট ডালিমের ক্যামেরা ভেঙে ফেলে।
হামলায় আহত ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। অথচ আমার শার্ট ধরে টেনে-হিঁচড়ে ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”
অন্যদিকে মাহবুব আলম শ্রাবণ বলেন, “ফখরুল ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়।”
ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতা হাফিজ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসী কায়দায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
