

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর-২(চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নেমে এসেছে ‘অসহনীয় শোকের কালো অন্ধকার’। মাঠজুড়ে ভোটের আমেজ নেই, থমথমে পরিবেশ; প্রচারণার হাকডাকও নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নীর নাম প্রকাশের পর থেকেই দুই উপজেলার ব্যাপক সংখ্যক তৃণমূল কর্মী হতাশায় নিমজ্জিত বলে জানা গেছে।
জামায়াতের উচ্ছ্বাস, বিএনপির হতাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের শক্ত ঘাঁটিখ্যাত এ আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে নামা হবে অত্যন্ত কঠিন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ নানা দিক থেকে এগিয়ে থাকায় জামায়াতের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট উচ্ছ্বাস।
বিশ্লেষকদের ভাষায়—
“বিএনপির টিকে থাকতে হলে প্রার্থী পরিবর্তন ছাড়া কার্যকর কোনো পথ নেই।”
জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. ফরিদ
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ছাত্রজীবনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি যশোরের বিখ্যাত খড়কী পীর বাড়ির সন্তান এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক শরিফ হোসেনের ছেলে। পাশাপাশি দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আদ্ব-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের শ্যালক হওয়ায় ঝিকরগাছা–চৌগাছা জুড়ে তাঁর পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
ফলে নানা সমীকরণে তিনি এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন বলে সাধারণ ধারণা।
নারী প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ— মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের সংগঠন, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল—
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও সাবেক জেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান,
চৌগাছা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম,
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ
—তাদের উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা সাবিরা নাজমুল মুন্নীকে ‘সহানুভূতির জায়গা থেকে’ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তাদের ভাষায়—
“এই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব।”
প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তৃণমূলের চাপ বাড়ছে
স্থানীয়দের বক্তব্য— চারটি একতরফা নির্বাচনের তিনটিতেই আওয়ামী লীগ সহজে জয় পেয়েছে এ আসনে। তবে এবার মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি বনাম জামায়াত, আর এখানেই বিএনপির বর্তমান প্রার্থীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় সংকট।
তারা দাবি করছেন—
“যশোর-২ রক্ষা করতে হলে দ্রুত পুরুষ ও সংগঠনিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।”
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী পরিবর্তন বিবেচনায় নেবে কি না— সেটিই এখন নজর কাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
