

যশোর প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিনে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন।
যশোরের ‘ভিআইপি আসন’ হিসেবে পরিচিত এই সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের ছাত্ররাজনীতি থেকেই একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই সদর এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের অভিমত। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর মনোনয়ন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাদের তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“নির্বাচিত হলে যশোরের মানুষের সহযোগিতায় সকল ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করব এবং একটি নীরব বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পরিচ্ছন্ন ও সৎ ভাবমূর্তির অধিকারী। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের পূর্ণ সমর্থন জামায়াত পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—
অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস (সহকারী সেক্রেটারি),
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস (প্রচার সেক্রেটারি),
অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা (কর্মপরিষদ সদস্য) এবং
নূর-ই-আল মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে যশোর-৩ আসনে ইতোমধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণ নেতা রাশেদ খান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে এই আসনে তীব্র ত্রিমুখী কিংবা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে।
