

ডেক্স রিপোর্ট :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এক রক্তাক্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত। ঠিক ১৯ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই দিনে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ বা ‘লগি-বৈঠা র্যালি’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে সহিংস সংঘর্ষ, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।
তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র ১৪ দল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশের ডাক দেয়। একই দিনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেটে পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করে।
দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান থেকে শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ। পল্টন, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও রক্তক্ষয়ী হামলা। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ও পরবর্তী কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
সংঘর্ষের সময় ‘লগি-বৈঠা’ হাতে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে দেখা যায়—যা থেকেই এই আন্দোলনের নাম হয় “লগি-বৈঠা আন্দোলন”। ঐ সময় প্রচারিত কিছু ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, প্রতিপক্ষের ওপর নির্মম আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা সারা দেশে তীব্র আলোড়ন তোলে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করে, সংঘর্ষে তাদেরই অধিকাংশ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপর টানা কয়েকদিন বিএনপি-জামায়াত ও ১৪ দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পল্টন এলাকা কার্যত বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে বিচারপতি কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি আইন জারি করেন এবং সেনা সহায়তায় ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ অক্টোবরের রক্তাক্ত সংঘর্ষই পরবর্তীতে বাংলাদেশের “ওয়ান-ইলেভেন” নামে পরিচিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম পটভূমি তৈরি করেছিল।
১৯ বছর পরও ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ রয়ে গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিতর্কিত, বেদনাদায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে।
