

স্টাফ রিপোর্টার :
দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দুই দশক শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে রমজানের শেষ দশক, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। এই সময়টিতে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও নেক আমলে বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কোরআন এই রাতেই নাজিল হয়েছিল। তাই মুসলমানরা এই দশকে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগ দিতেন। তিনি মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও রাত জেগে ইবাদতে উৎসাহিত করতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, শেষ দশক শুরু হলে রাসুল (সা.) রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকের পক্ষে ইতিকাফ করা সম্ভব না হলেও অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। পাশাপাশি এই সময় দান-সদকা করা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলেমরা বলেন, রমজানের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহামূল্যবান সুযোগ। তাই অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের মাধ্যমে এই সময়কে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।
