

নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
বুধবার রাজধানীর বাংলামটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক স্বাস্থ্য সাংবাদিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে টেন্ডার ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেন্ডার বারবার হাতবদল হওয়ার কারণে প্রকল্পের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার সফল মডেলের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে সীমিত সম্পদেও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসিত এই মডেল জাতীয় পর্যায়ে অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে অধিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোগীসেবাভিত্তিক অর্থায়ন চালু করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৭.৪ শতাংশ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যা অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা দূর না করলে বড় বরাদ্দও কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে না।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ। তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, দালালচক্র ও অসাধু গোষ্ঠীর প্রভাব কমিয়ে জনগণের জন্য সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজসহ স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
