

২০২৪ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বছর জুলাই মাসের মধ্যে আগের বছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরে দলের মোট আয় ছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা। এর মধ্যে কর্মী ও সদস্যদের মাসিক চাঁদা থেকে এসেছে ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ১৬২ টাকা, কার্যনির্বাহী কমিটি বা উপদেষ্টা পরিষদের চাঁদা ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ১৪৯ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার অনুদান ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৯ টাকা। এছাড়া দলের পত্রিকা, সাময়িকী ও বইপুস্তক বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ২৯০ টাকা।

গত বছরে জামায়াতের মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা। এর মধ্যে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও বোনাসে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭৩ টাকা, আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪৯৫ টাকা এবং প্রচারণা ও পরিবহনে ২ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৫৬৩ টাকা। প্রার্থীদের অনুদান বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা। এছাড়া ধর্মীয় বিশেষ অনুষ্ঠান, আপ্যায়ন, জনসভা, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বাকী অর্থ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হিসাব অনুযায়ী জামায়াতের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।
অন্যদিকে, গত ২৭ জুলাই বিএনপি ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেয়। দলটির হিসাব অনুসারে, তাদের আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ফলে হাতে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানান, দলের আয়ের প্রধান উৎস ছিল সদস্য চাঁদা, বই-পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদ ও এককালীন অনুদান, আর ব্যয়ের বড় অংশ গেছে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট-পোস্টার মুদ্রণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তার পেছনে।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুই দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অর্থের উৎস ও ব্যয়ের ধরন স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
