
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি : মোঃ ইস্রাফিল হোসেন
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় মাগুরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কায়েমকোলা কাঁচা বাজারে এ সম্মেলন বসে। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি জনাব আনোয়ার হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আদর্শ মানুষ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। কারণ একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন আদর্শ মানুষ। জামায়াতে ইসলামীর ছায়াতলে অসংখ্য সৎ, যোগ্য ও আদর্শ মানুষ রয়েছে, যারা অতীতে এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যানসহ নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা নৈতিকতা ও আদর্শের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।”তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলাম সৎ নেতৃত্ব ও আল্লাহর আইনের বাস্তবায়ন চায়। জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে তারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করবে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, “আমরা ইনশাআল্লাহ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ উপহার দেবো।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলিম। এছাড়াও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী সম্মেলনে অংশ নেন।বক্তারা তাদের বক্তব্যে গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় জনগণের ওপর দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, লুটপাট, গণহত্যা ও নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েছে। এ কারণেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, “যে দল উন্নয়নের মহাসড়কের গল্প শোনাতো, তারা কেন ক্ষমতা ছাড়ার পর এক মুহূর্তও দেশে টিকে থাকতে পারলো না?”তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করে জামায়াতে ইসলামীকে দমন করতে চেয়েছে। গত ১৫ বছরে অগণিত নির্যাতনের শিকার হলেও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালায়নি। কারণ জামায়াত জনগণের সম্পদ লুট করেনি, মানুষ হত্যা করেনি। তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সবসময় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই হয়ে এসেছে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জনগণের প্রকৃত অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব কেবল ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে। তাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।কর্মী সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ঐক্য ও জনগণের সমর্থন অর্জনে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মীরা শপথ নেন— ন্যায়, সত্য ও আদর্শের পথে অটল থেকে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন।

