
কালীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবহন শ্রমিক, বাস কাউন্টার মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—কয়েকদিন স্থবির থাকার পর আবারও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রকাশ্যে টাকা তোলা শুরু হয়েছে।
টার্মিনালে হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী ফেরদৌস (বাড়ি: চাপালি গ্রামের কুটি পাড়া) নিয়মিত কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ সড়কে অটোরিকশা চালান। তার অভিযোগ, টার্মিনালে নির্ধারিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হাতের চাবি দিয়ে তার চোখের উপরে আঘাত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত।
ফেরদৌস বলেন, “চাঁদা না দিলে গাড়ি চালাতে দেবে না—এমন হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়।” বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাস কাউন্টার ও যানবাহনে অতিরিক্ত চাঁদা দাবি
পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে ৯০০ টাকার বেশি চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, যা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বাস নয়—নসিমন, ইজিবাইক, ভ্যান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের যানবাহন থেকেও প্রতিবার যাতায়াতে ২০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে চালক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সক্রিয়তা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পয়েন্ট ও সংযোগ সড়কে আবারও চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা ও ব্যস্ত পরিবহন চলাচলের পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত জোট প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঁদাবাজি বন্ধের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আসন পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মাওলানা ওলিউর রহমান বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন করে জনমনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে চাঁদাবাজি রোধে এখনো দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে চাঁদা আদায়ের প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সড়ক-টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই কালীগঞ্জের সড়ক ও টার্মিনালে স্বস্তি ফিরতে পারে।


