
ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে এবং তা ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন একই দলের যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অডিও বক্তব্যে গাজী এনামুল হক বলেন, ইসলামে বৈধ ও সুন্নতসম্মত বিয়ে গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই হওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বিয়ে বৈধ হয়, তাহলে সেটি কেন গোপনে সম্পন্ন করা হলো এবং পরে সেটিকে সুন্নত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইসলামে বৈধ কাজ গোপন রাখার পরিবর্তে প্রকাশ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার কার্যালয়ে অবস্থানকালে একদল ব্যক্তি তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে এবং সেই সময় স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। গাজী নজরুলের বিয়ের দাবির পাশাপাশি একই দলের একজন সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য সমালোচনামূলক বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তবে গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, গাজী এনামুল হকের অডিও বক্তব্য এবং ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তথ্যই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে।


