
নিউজ ডেস্ক :
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে জারি করা অনুদান মঞ্জুরির একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে জারি করা চিঠিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির তথ্য উল্লেখ করা হয়। ভাইরাল হওয়া তালিকায় দেখা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার হবোখালী ইউনিয়নের হবোখালী গ্রামের ফাইজা (পিতা: মোঃ বাচ্চু) ১ নম্বরে এবং ফাইজা (পিতা: মোঃ আতাউর) ৮ নম্বরে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন। তালিকায় দ্বিতীয় নামটি সংসদ সদস্যের মেয়ের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে সংসদ সদস্য মোঃ আতাউর রহমান বাচ্চু নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য প্রতি অর্থবছরে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান পান। তিনি শপথ নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নড়াইল-২ আসনের জন্য মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন।
সংসদ সদস্যের দাবি, তিনি এলাকায় ব্যস্ত থাকায় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তালিকা তৈরির দায়িত্ব পালন করেন। পিএস তাঁকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামের তালিকা ও ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) জমা দিতে হবে। তখন তিনি সব ইউনিয়ন থেকে উপকারভোগীদের নাম সংগ্রহ করে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, পরে তাঁর পিএস জানায়, অফিস থেকে আপাতত কিছু পরিচিত নাম দিয়ে তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে, পরে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা যাবে। তিনি দাবি করেন, স্বাক্ষর করা প্যাডে তালিকা জমা দেওয়া হলেও সেখানে কার কার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা দেখার সুযোগ তাঁর হয়নি। এমনকি এখনো তিনি অনুদানের অর্থ হাতে পাননি বলেও জানান।
এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, টাকা হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে এবং অর্থবছর শেষে অন্যান্য অনুদানের মতো সেই তালিকাও জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে। তিনি জানান, সদর উপজেলার ১০ জনের জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নতুন তালিকা পাঠিয়ে সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, অনুদানের প্রাথমিক তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।


