
নিজেস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর কাকরাইলে টিয়ারশেল আর সাউন্ড গ্রেনেডের গর্জনে থেমে গেল জাতীয় পার্টির কর্মী সমাবেশ। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, নেতৃত্ব সংকট ও আসন্ন নির্বাচনে অবস্থান নির্ধারণকে ঘিরে আয়োজিত এই সমাবেশ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। বাতাসে ভাসে টিয়ারশেলের ধোঁয়া—কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ ব্যানার-ফেস্টুন ফেলে আশ্রয় নিচ্ছে পাশের গলিতে।
জি এম কাদেরের আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় অবস্থান ও প্রতীক সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা। কিন্তু শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সমর্থকদের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে যখন চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত, তখন নিচে নেমে আসে বিশৃঙ্খলার ঢেউ। মুহূর্তেই শ্লোগান থেকে শুরু হয় ঠেলাঠেলি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষের আশঙ্কা।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দুই পক্ষের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”
এদিকে সমাবেশ ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বলছেন—“দল নিজের মধ্যেই বিভক্ত, সামনে নির্বাচন—কোথায় দাঁড়াবে জাতীয় পার্টি?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সংকেত বহন করছে।


