
স্টাফ রিপোর্টার :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক সমালোচনা, প্রশ্ন উঠেছে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও।
শনিবার (০৯ মে) বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত উপজেলা রুকন সম্মেলনে যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল আনুষ্ঠানিকভাবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণা করেন। তবে ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে শুরু হয় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতর্কিত অতীত ও নানা সমালোচনার সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করে দলটি নিজেদের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ব্যক্তি একসময় জামায়াত-শিবিরকে চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছিল, আজ তাকেই দল চেয়ারম্যান প্রার্থী বানিয়েছে—এটি তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।”
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ লিখেছেন, “যোগ্যতা নয়, তদবির আর তেলবাজিই এখন পদ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।” নারী কেলেঙ্কারির বিষয় ও সামনে এসেছে, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “রমজানে করা থানা কমিটির প্যানেলে যার নামই ছিল না, সে হঠাৎ প্রার্থী হয় কীভাবে?”
দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর দাবি, গত রমজান মাসে থানা শাখা চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করেছিল। সেই তালিকায় কবির বিন সামাদের নাম না থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা আমির ও থানা আমিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্যতার কারণেই কবির এই মনোনয়ন পেয়েছেন। তৃণমূলের ভাষ্য, “দলীয় যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কই এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জামায়াত সমর্থক বলেন, “যে সিদ্ধান্ত মাঠের কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া হয়, সেই সিদ্ধান্ত কখনোই দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।”
ঘোষণার পর গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই ক্ষোভ দল কীভাবে সামাল দেয়।


