
ঝিকরগাছা প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের আশিংড়ী, শিওরদাহ ও নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি পুরাতন খালের কালভার্টের নিচে বাঁশের পাটাতনের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তাদের দাবি, খালের মধ্যে তৈরি করা বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাব্বত আলী নন্দীডুমুরিয়া মৌজা এবং পার্শ্ববর্তী নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা মৌজায় অবস্থিত আফিল ফার্ম সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের নিচে বাঁশের পাটাতনের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নন্দীডুমুরিয়া ও আশিংড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্ষাকালে খালের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত না হলে আশিংড়ী, শিওরদাহ, নন্দীডুমুরিয়াসহ অন্তত তিন থেকে চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে। এতে কৃষি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ নেমে আসবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি খাল ও কালভার্টের নিচে এ ধরনের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাব্বত আলী বলেন, “খাল দখল করে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে থেকেই এখানে পুকুর রয়েছে। আমি শুধু মাছ চাষ করছি।”
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের বর্তমান অবস্থা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি এবং জনদুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হবে।


