
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছায় ক্লু-লেস ভ্যানচালক মাসুম বিল্লাল ওরফে মাসুদ (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার ও নিহতের ভ্যানগাড়ি উদ্ধার করেছে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে নিখোঁজ হন মাসুম বিল্লাল। পরদিন তাঁর পিতা মো. আজিজ খান শার্শা থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৯৪) করেন। ১০ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার বায়শা গ্রামের প্রবাসী রবিউল ইসলামের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরের জানালার গ্রিলে ফাঁস লাগানো অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহের পরনের পোশাক ও গলায় দড়ি দেখে নিহতের পিতা তাঁর ছেলেকে শনাক্ত করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা (নং-১০, তারিখ ১১/১০/২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০) দায়ের করেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় হত্যার মূল রহস্য উন্মোচিত হয়।
২২ অক্টোবর ভোররাতে শার্শার উলশী (কুচিমোড়া) গ্রাম থেকে আলী হাসান (২৫) নামে এক আসামিকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পাটকেলঘাটা থানার যুগিপুকুরিয়া গ্রাম থেকে শরিফুল ইসলাম (৩৮) ও কামরুজ্জামান সরদার ওরফে কামরুলকেও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, আলী হাসান ও পলাতক আসামি মামুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে শার্শার উলশী বাজার থেকে মাসুমের ভ্যানে ওঠে। পরে ঝিকরগাছার বায়শা গ্রামের প্রবাসী রবিউলের নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভ্যানের মুছা ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রেখে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন তারা ভ্যানটি ১৭ হাজার টাকায় শরিফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। পরবর্তীতে শরিফুল সেই ভ্যান ২০ হাজার টাকায় কামরুজ্জামান সরদারের কাছে বিক্রি করেন। পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করেছে।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “এটি ছিল একটি ক্লু-লেস হত্যা মামলা। আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে।”


