
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিতি, সরকারি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ যথাযথভাবে তদারকি না করা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার ছুটি, কর্মস্থলে অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই পিআইও জালাল আহমেদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি নিয়মিত ঢাকা-যশোর যাতায়াত করেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এমনকি বিমানে যাতায়াতের অভিযোগও রয়েছে। তবে বিমানে যাতায়াতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ে কাজ তদারকি করা পিআইওর অন্যতম দায়িত্ব। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে দেখা যায় না। তিনি কোন কোন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন, এসব পরিদর্শনের প্রতিবেদন বা রেকর্ড রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই অফিস করার পর পিআইও জালাল আহমেদ কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং ৬ আগস্ট পুনরায় অফিসে যোগ দেন। এ সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন সরকারি কাজে উপজেলা কার্যালয়ে আসা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও নথিপত্রে স্বাক্ষর পেতে বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জালাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি কীভাবে ছুটি কাটিয়েছি, তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই জানেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আমি গণমাধ্যমের কাছে কোনো কথা বলতে পারব না।”
এদিকে পিআইওর ছুটি ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা বিধিমালা অনুযায়ী ছুটি নিতে পারেন। ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ছুটির বিধিমালা ওয়েবসাইটে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
একপর্যায়ে সাংবাদিকের প্রশ্নকে অনধিকার চর্চা উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, “এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী কারণে, কেন এবং কোন বিধিমালায় তিনি ছুটি নিয়েছেন, এটা আমি বলতে বাধ্য নই। এটা অনধিকার চর্চা। তিনি ছুটি নিতেই পারেন।”
সাংবাদিকের প্রশ্নের উদাহরণ দিতে গিয়ে ইউএনও বলেন, “আপনি দাড়ি রেখেছেন, আমি কি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি কেন দাড়ি রেখেছেন? এগুলো অনধিকার চর্চা। এমন সাংবাদিকতা করবেন না।”
পিআইওর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, “একজন কর্মকর্তা অফিসে না আসলে আমাদের তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আপনাদের (সাংবাদিকদের) কেন সমস্যা হচ্ছে?”
এদিকে, একজন সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার ছুটির ধরন, অনুমোদন এবং ওই সময়ে সরকারি প্রকল্পগুলোর তদারকি কীভাবে হয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পিআইও বৈধ ছুটিতে থাকলে তার ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের নথি, অনুপস্থিতকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিদর্শনের রেকর্ড যাচাই করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কর্মকর্তার কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরকারি সেবা ও জনস্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই পিআইওর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের ধরন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।


