
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে একদল সংঘবদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় জুয়ার আসর, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এসব আসরে অংশ নিচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকরাও। ফলে তারা লেখাপড়া ও স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্যুত হয়ে অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যেই বসছে জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে, ফজলুর মোটর সংলগ্ন এলাকা, আব্দুল কুদ্দুসের কলাবাগান, পশ্চিম মাঠের বাগানসহ কয়েকটি নির্জন স্থানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জুয়ার আয়োজন করা হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় জমে বিভিন্ন বয়সী মানুষের। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, উঠতি বয়সী অনেক তরুণও নিয়মিত অংশ নিচ্ছে এসব আসরে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি এসব জুয়ার আসর পরিচালনা করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে জুয়ার আসর চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে অনেকেই সংসারের প্রতি দায়িত্বহীন হয়ে পড়ছেন। সংসারের টাকা-পয়সা জুয়ায় হারিয়ে পরিবারে সৃষ্টি হচ্ছে অশান্তি। ইতোমধ্যে কয়েকজন জুয়ারীর স্ত্রী স্বামীর জুয়া খেলার প্রতিবাদ করে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পারিবারিক কলহ-বিবাদ বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুয়ার বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবন ও নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিশোরদের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ছে জুয়ার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে, যা ভবিষ্যতে কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ফুলবাড়ি গ্রামের সচেতন নাগরিকরা বলেন, “আজ যদি জুয়ার আসর বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী অবিলম্বে জুয়ার আসর বন্ধ, আয়োজকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


