
স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী বলেছেন, দলের কিছু পদধারী নেতার বিশ্বাসঘাতকতা ও গোপন আঁতাতের কারণেই তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মনোনয়নবঞ্চিত ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে ও গোপনে তার বিরুদ্ধে কাজ করায় ভোটের মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুকূলে চলে যায়।
মঙ্গলবার দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুন্নী এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দলের কিছু নেতার বেইমানি ও ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের কাছে ৩৪ হাজার ৫১৮ ভোটে পরাজিত হন।
মুন্নী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপি নেতা মোর্তজা এলাহী টিপু শুধু সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়েই দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, জেলার কিছু শীর্ষ নেতার মদদ থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি। বরং বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন এবং নিজের অনুসারীদের ধানের শীষে ভোট না দিতে বলেছেন। এসব ঘটনার বহু প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মুন্নীর অভিযোগ, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন এবং তার অনুসারীরাও ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানও ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে মাহমুদুল হাসান ভোটারদের ‘যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে’ বলেছিলেন, যা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারই প্রমাণ।
মুন্নী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশের নেতা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার জানালেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মুন্নী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের মনোনয়নে সরাসরি নির্বাচন করেছেন। দলের কিছু নেতার বেইমানির কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে হারলেও দল চাইলে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়ন দিতে পারে। এতে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।
দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মনোনয়নবঞ্চিতদের লাগাতার কর্মসূচির মধ্যেও তিনি সর্বোচ্চ সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা সামনে সমর্থন দেখালেও ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করেছেন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, সাবিরা সুলতানা মুন্নীর স্বামী নাজমুল ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মুন্নী। ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।


