
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুরের একটি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (তারিখ প্রযোজ্য হলে বসবে) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে। আটককৃতরা হলো—হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৮)।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে ওই কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার কারণে তার মা ও চাচা ফরিদপুর সদর হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কিশোরীটি তার ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ঘরটি ঘিরে ফেলে এবং দরজা খোলার জন্য চাপ দিতে থাকে। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় দুর্বৃত্তরা বসতঘরের জানালা ভেঙে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।
স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। পরে কিশোরীকে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী একজোট হয়ে ধাওয়া দিয়ে একটি মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে আটক করে। পরে গণধোলাই দিয়ে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘরের জানালা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনতার হাতে আটক দুই যুবক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


