
যশোর প্রতিনিধি :
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ‘গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে শহরের টাউন হল ময়দান থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি শহরের মাইকপট্টি ঘুরে চৌরাস্তা প্রদক্ষিণ করে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মিছিল চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘গুলির মুখে কথা হবো, আমরা সবাই হাদি হবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘সন্ত্রাস আর বাংলাদেশ একসাথে চলে না’, ‘একশন একশন, ডাইরেক্ট একশন’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। তাদের অভিযোগ, হাদীর ওপর হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পূর্ণ দায় সরকারের ওপর বর্তায়। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু আজও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোরের প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান বলেন, “হাদী জুলাই আন্দোলনের কণ্ঠস্বর। সেই কণ্ঠস্বর দমনে যারা হামলা চালিয়েছে তারা দেশ ও গণতন্ত্রের শত্রু। ক্ষমতার শক্তির চেয়ে জনগণের শক্তি বড়—এবার কেউ আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র চলছে, হাদীর ওপর হামলা সেই চক্রান্তেরই অংশ।” তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা নাগরিক পার্টির সদস্য সালমান হাসান রাজিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখ্য সংগঠক আল মামুন লিখন, ছাত্রনেতা ইমরান খান ও ফাহিম আল ফাত্তাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


