
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মিন্নু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় অংশ নিতে তৎপরতা শুরু করেছেন—এমন অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবার তিনি আওয়ামী লীগের ব্যানারে নয়, বরং ‘জনতার দল’ নামে একটি অখ্যাত সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে নামার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিগত নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও ‘ভুয়া ভোটে’ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে আব্দুল মান্নান মিন্নুর বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করতে না পেরে নতুন প্ল্যাটফর্মের আশ্রয় নিয়েছেন—এমন ধারণা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জোরালো হয়েছে।
শার্শার সাধারণ ভোটারদের একাংশের দাবি, তথাকথিত ‘জনতার দল’ আসলে আওয়ামী লীগেরই একটি বি-টিম বা ছদ্মবেশী সংগঠন। তাদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার পরও কৌশলে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনি জটিলতা ও জনরোষ এড়াতে প্রভাবশালী কিছু নেতা নতুন বা নামসর্বস্ব দলের ব্যানারে রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছেন। আব্দুল মান্নান মিন্নুর সাম্প্রতিক তৎপরতাও সেই কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোটারদের আস্থা আদায় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, কেউ স্বতন্ত্র বা নিবন্ধিত কোনো দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের ছায়া বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে শার্শার সচেতন নাগরিক সমাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিন্নুর এই ‘ছদ্মবেশী’ রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। অনেকে আসন্ন নির্বাচনে তাকে প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন শার্শাবাসীর কৌতূহলের কেন্দ্রে।


