
যশোর প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর–২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনও। সর্বশেষ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়ন সংক্রান্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে রায় ঘোষণার তারিখ ১৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। বাতিলের কারণ হিসেবে জানানো হয়, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় প্রয়োজনীয় ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হয়নি। সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্টে প্রায় ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া দেখানো হয়েছিল।
তবে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উক্ত বকেয়ার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিশোধ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন না হওয়ায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান।
পরবর্তীতে ১১ জানুয়ারি আপিল ও শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করে সমাধান হয়েছে বলে মত দেয়। তবে একই দিনে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে এবং তাঁকে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ প্রমাণপত্র দাখিলের জন্য ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়।
নির্ধারিত তারিখে অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে ১৭ জানুয়ারি। ওই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যশোর–২ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নির্বাচনী ভাগ্য।


