
নিজস্ব প্রতিবেদক ঝিকরগাছা যশোর:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তবে সরকারবিরোধী প্রধান দুই দল—বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিত্র উপস্থাপন করছে। বিএনপি যখন দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জর্জরিত, ঠিক তখনই জামায়াত সুসংগঠিতভাবে একক প্রার্থীকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যশোর-২ আসনে বিএনপির তৃণমূল ভিত্তি শক্তিশালী হলেও বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। একাধিক প্রভাবশালী নেতার নিজস্ব গ্রুপ, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, সমন্বয়ের অভাব এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পাওয়ায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এই অস্থিরতা সমাধান না হলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি যখন নেতৃত্ব সংকটে দিশেহারা, তখন জামায়াতে ইসলামী যশোর-২ আসনে সুসংহত ও একমুখী অবস্থান গড়ে নিয়েছে। দলের হাইকমান্ড ও স্থানীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে এখানে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বমুক্ত পরিবেশে ডা. মোসলেহ ফরিদ ইতোমধ্যে পুরো নির্বাচনী এলাকায় পুরোদমে গণসংযোগ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন এলাকার চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক কাজে যুক্ত থাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা তৃণমূলে তুলনামূলক বেশি। তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোর-২ আসনে জামায়াতের আগাম প্রস্তুতি বিএনপির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডা. মোসলেহ ফরিদের মতো গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সামনে এনে জামায়াত নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে আছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোট বা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে এই আসনে জামায়াতের দাবি আরও জোরালো হবে বলেও অনেকেই মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, যখন জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে একক প্রার্থী নিয়ে সুসংগঠিত প্রচারণায় ব্যস্ত, তখনো নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে যশোর-২ আসনের বিএনপি।


