
ডেক্স রিপোর্ট :
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন। গত ১০ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবর এই আবেদনপত্র জমা দেন চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা ইউনিটের নেতারা।
স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ: ‘ঘোষিত প্রার্থী মাঠে ছিলেন না’
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—দল ঘোষিত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সঙ্গে এলাকার সাধারণ নেতা-কর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। ফলে তার নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আব্দুস সালাম জানান,
“আমরা ২৭ জন নেতার স্বাক্ষরিত আবেদন কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। আমাদের ব্যক্তিগতভাবে কারও প্রতি পক্ষপাত নেই; আমরা চাই এমন কাউকে মনোনীত করা হোক যিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেন। তাহলেই মাঠে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।”
ঝিকরগাছা বিএনপির একই দাবি
অন্যদিকে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুনও প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আবেদন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতার স্বাক্ষরিত আবেদন আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। বর্তমান প্রার্থীর মাধ্যমে জামায়াতের শক্ত প্রার্থীর বিপক্ষে জয় লাভ করা কঠিন হবে। তাই আমরা প্রার্থী পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।”
বিতর্কের কেন্দ্র প্রার্থী সাবিরা সুলতানা
গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদেশে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় যশোর-২ আসনে মনোনীত হন সাবিরা সুলতানা—জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের স্ত্রী এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্থানীয় দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও যৌথ আবেদনের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি যশোর-২ আসনের প্রার্থী নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবে কিনা—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতির কর্মীরা।


