
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮ নম্বর নির্বাসখোলা ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। চায়ের দোকান, হাট-বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নির্বাচন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের ভোটের মাঠ।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মুজাহিদুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তরুণ ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রার্থিতা নির্বাচনী মাঠের প্রচলিত হিসাব-নিকাশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
মুজাহিদুল ইসলাম সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরছেন তিনি।
গণসংযোগকালে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো ক্ষমতার লোভে নয়, নির্বাসখোলার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে কাজ করবেন। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের মতে, নির্বাসখোলা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, তরুণ ভোটারদের মনোভাব এবং প্রার্থীদের সাংগঠনিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে মুজাহিদুল ইসলামের গণসংযোগ ও প্রচারণা ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা।
তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে নির্বাসখোলা ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই প্রার্থীদের প্রচারণা ও ভোটের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


