
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরণগর ইউনিয়নের খাটুরা বাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হরিহরণগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আবির হোসেনসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের ছোট চাচা রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু গ্রুপের ১২-১৫ জন কর্মী দোকানে এসে দুই ভাইকে মারধর করে।
আহত আবির হোসেনের মা মৌসুমি বেগম বলেন, “আমার ছোট ছেলে আবিরকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পরে তার বাবা ও এলাকার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
আহতদের পিতা জাহাঙ্গীর মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হরিহরণগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে রিপন, মহব্বত, বুলবুল, আব্দুল আলিমসহ আরও ১৪-১৫ জন এ হামলায় জড়িত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হরিহরণগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঝিকরগাছায় অবস্থান করছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে ঘটনার কথা শুনেছেন। তিনি স্বীকার করেন, অভিযুক্ত কয়েকজন তার গ্রুপের কর্মী। রবিউল ইসলাম আরও বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আবির এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী মওলানা রশিদ বিন ওয়াক্কাসের সমর্থকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের কলস মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য। এর জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, “রবিউল ইসলাম তার নিজস্ব গ্রুপের রাজনীতি করে। ঘটনার বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। শুনেছি ওই যুবক কিছুদিন ধরে এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিল।”
এ ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


