
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করাকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সংসদে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৮০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ বলেন, দেশে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ হার ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং বাংলাদেশকেও ধীরে ধীরে সে পথে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় দেশে স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ১৮ শতাংশ রয়েছে। এছাড়া অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অবস্থান করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জনবল সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য ফরিদ বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা হলেও জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ওষুধ ক্রয়ে এবং ২৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যয় হয়।
তিনি অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ৫০ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি সামান্য মেরামতের অভাবে অচল হয়ে পড়ে আছে উল্লেখ করে দ্রুত সেগুলো সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন অনেকাংশে কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এমপি ফরিদ আরও বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৩) অর্জনের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পরিচালন খাত থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, “শুধু বাজেটের আকার বাড়ালেই হবে না। জনবল সংকট, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ, বিকল যন্ত্রপাতি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা দূর করতে পারলেই সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত সুফল পাবে।”
বাজেট আলোচনায় তিনি স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর কর কমানো এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সরকারি উদ্যোগকেও স্বাগত জানান।


