
যশোর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, “একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এই দুই বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনও নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যায়।”
মঙ্গলবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লার মাপে কোনো কম-বেশি হবে না; যার যা প্রাপ্য, তা সবাইকে ন্যায্যভাবে জানানো হবে। তিনি যশোরের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় এলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; এটি জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। পরিবারকেন্দ্রিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে গণভোটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে মুক্তির পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে, তাদের নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের ওপর হাত তোলার ঘটনা ঘটছে—যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং আইন নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই। যুবসমাজকে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন ও সুশাসন নিশ্চিত করাই জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার মূল লক্ষ্য। তিনি যশোরবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


