
ঝিকরগাছা প্রতিনিধি :
ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর বাজারে গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে শহীদ নাজমুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ নভেম্বর (বুধবার) বিকাল ৪টায় আয়োজিত এ সভা ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মিছিল নিয়ে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, নারী–পুরুষসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সভাস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ নাজমুল ইসলামের সহধর্মিণী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নি।
মাঠে উপস্থিত হলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও করতালির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়। মুহূর্তেই পুরো মাঠ আবেগে ভরে ওঠে, উপস্থিত মানুষের চোখে পড়তে দেখা যায় আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার ছাপ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি শহীদ নাজমুল ইসলামের জীবনী, তার অসীম সাহস, দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন—
“নাজমুল ইসলাম ছিলেন সৎ, আদর্শবান ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামী একজন মানুষ। তার ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি যে লড়াই করেছেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন—
“এই এলাকার মানুষ আজও শান্তি, নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমি নাজমুল ইসলামের পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, আপনাদের সন্তান হিসেবে পাশে থাকতে চাই। গুম–খুন ও ভয়ভীতির রাজনীতি জনগণের শক্তিতেই বন্ধ হবে।”
সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ বক্তব্য রাখেন। তারা শহীদ নাজমুল ইসলামকে “অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন—
“নাজমুল ইসলাম শুধু একটি নাম নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলনের অগ্রদূত। তার পরিবারের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
অনেকেই সাবিরা নাজমুল মুন্নির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে বলেন যে, নাজমুল ইসলামের আদর্শ ধরে রাখতে হলে তার পরিবারের সদস্যদের সাহস যোগানো জরুরি।
সারাদিন জুড়ে সভাস্থল ছিল উৎসবের মতো প্রাণবন্ত।
নেতাকর্মীদের মিছিল, নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এবং শহীদ নাজমুল ইসলামকে স্মরণ করে টাঙানো পোস্টার–ব্যানারে পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে।
সভা শেষে শহীদ নাজমুল ইসলামের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা গুম–নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার, ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


