
যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। পৃথক দুটি ঘটনায় দুই ইউনিয়নের একাধিক নারী ভোটকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দুপুরে চৌগাছা উপজেলার ধূলিয়ানী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামে সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা এই হামলায় অংশ নেন।
স্থানীয় ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে একই গ্রামের লিয়াকত আলী, শিমুল হোসেন, কবির হোসেনসহ কয়েকজন হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় নারী ভোটকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার শিকার নারী কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন— মোছা: রিংগুন খাতুন, সুমাইয়া বেগম, শাহানাজ খাতুন, দিশা খাতুনসহ ৫–৬ জন। এ সময় তাদের ভবিষ্যতে ভোটের প্রচারণায় অংশ না নিতে হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিংগুন খাতুন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অন্যদিকে, ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামে ভোট চাইতে গেলে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হামলার শিকার হন একই গ্রামের নাসরিন খাতুন, রিনা খাতুন, মোছা: নুরজাহান, লিমা খাতুন, সুমাইয়া খাতুন ও আলপনা খাতুন।
অভিযোগে বলা হয়, শাহাবুদ্দিন, মুকুল ও মন্টু রহমান এই হামলায় জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসানের দপ্তরে আলাদা অভিযোগ দাখিল করেছেন জামায়াতের নারী ভোটকর্মী নাসরিন খাতুন।
এদিকে, ধারাবাহিক হামলা ও নারী ভোটকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে আজ ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় চৌগাছা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌগাছা উপজেলা মহিলা বিভাগ ও ১১ দলীয় ঐক্য।
বিক্ষোভ থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নারী ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।


