
ঝিকরগাছা (যশোর)প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২ লাখ টাকার প্রকল্পে প্রকৃত কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার, আর বাকি অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব।
কমিটির সদস্য আয়ুব হোসেন জানান, স্থানীয়ভাবে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তারা কাজটি সম্পন্ন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই কর্মসূচিতে যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন শ্রমিকদের হাজিরা ছিল ৫০০ টাকা। মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয় ৭৬ হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাল খননের নামে যে কাজ করা হয়েছে তা মূলত একটি বড় আকারের ড্রেনের মতো। প্রায় ৬ ফুট প্রস্থ ও ৪ ফুট গভীর একটি নালা কাটা হয়েছে। তবে খালের সম্মুখভাগে কোনো খনন কাজ না হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা বয়ে আনছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজে-কলমে প্রকল্প কমিটি থাকলেও পুরো প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনিই প্রকল্পটি এনে স্থানীয় মেম্বারকে দিয়ে কাজ করান। ২ লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন হলেও অবশিষ্ট ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে জানান এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রকল্পের কাজ। এলাকার স্বার্থে কাজটি করে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমি সরল বিশ্বাসে খালি চেকে স্বাক্ষর করে দিই। পরে শ্রমিকদের বিল পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি সেখানে কখনো যাইনি। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।”
অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের নামে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না।”
সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”
এদিকে সরকারি অর্থের অপচয়, খাল খননের নামে দায়সারা কাজ এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


