
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের ঝিকরগাছায় ভাগ্নীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এনামুল হক (৫০) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার শরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এনামুল হক ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, এনামুল হকের ভগ্নিপতি রেজাউল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এনামুল হক প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে এনামুল হক ইজিবাইক থেকে নেমে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—রবিউল ইসলাম (৪০), হোসাইন (২৫), রাকিব হোসেন (২০), মেহেদী হাসান (২২) ও রাব্বি ইসলাম (১৮)সহ আরও কয়েকজন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাহুল দেব ঘোষ জানান, নিহতের ডান পাশের পিঠে গুরুতর আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, “ঘটনাস্থল মনিরামপুর থানা এলাকায় হলেও নিহত ও অভিযুক্তরা ঝিকরগাছা থানা এলাকার বাসিন্দা এবং তারা পরস্পরের প্রতিবেশী। খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা ও ঝিকরগাছা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।”
পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


