
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পগুলোর কাজের মান, অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে একটি প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইট পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) উপজেলার মাগুরা, গঙ্গানন্দপুর, শিমুলিয়া, নাভারন ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় কাবিখা, কাবিটা, টিআর ও নগদ অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২২টি প্রকল্পে প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং ২২ মেট্রিক টন গমের বিপরীতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য মাগুরা ইউনিয়নের কায়েমকোলা দক্ষিণপাড়া থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার ইটের সলিংকরণ, আটলিয়া দারুস সুন্নাহ কমপ্লেক্সের উন্নয়ন, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের ছুটিপুর-কাশিপুর পাকা সড়ক থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চাতাল পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই, শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামের রাস্তা উন্নয়ন, নাভারন ইউনিয়নের বায়সা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার উন্নয়ন এবং নির্বাসখোলা ইউনিয়নের একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
প্রকল্পগুলোর নির্মাণমান যাচাই করতে তিনি নিজ হাতে ফিতা দিয়ে রাস্তার প্রস্থ মাপেন এবং ব্যবহৃত ইটসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্থানীয়দের উদ্দেশে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, “জনগণের কল্যাণে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সব কাজ নিয়মিত আমার পক্ষে তদারকি করা সম্ভব নয়। তাই জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে আমাকে জানাবেন। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
পরিদর্শনের একপর্যায়ে নির্বাসখোলা ইউনিয়নের রাজারডুমুরিয়া এলাকায় একটি রাস্তার সলিংকরণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি তার নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওই ইট পরিবর্তনের নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, নির্বাসখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উন্নয়নাধীন এসব গ্রামীণ সড়ক একাধিক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার কারণে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


