
স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, সামাজিকমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ফ্যাক্টচেকভিত্তিক পোর্টাল দ্য ডিসেন্ট তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট ভিডিও, কয়েকটি স্থিরচিত্র এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করেছে। তাদের দাবি, এসব উপাদান এআই দিয়ে তৈরি—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যাচাইয়ের অংশ হিসেবে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি একটি ভাইরাল ছবিতে থাকা নারী নিজের বলে স্বীকার করলেও ছবি বা ভিডিও কীভাবে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অনুসন্ধানের সময় সাংবাদিকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ‘FORHAD HOSSAIN AZAD’ নামে সংরক্ষিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতিমন্ত্রী পরিচয় নিশ্চিত না করে সাংবাদিককে দপ্তরে এসে কথা বলার আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মারিয়া সরকার এলিন নামে এক উপস্থাপিকা ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তোলা পেশাগত ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মানহানিকর উল্লেখ করে প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ে জেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওকে এআই-নির্ভর অপপ্রচার দাবি করা হয়। বক্তারা এ ধরনের প্রচারণার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা নিয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো সরকারি বা স্বাধীন ফরেনসিক তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি ও পাল্টা দাবিই বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।


