
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভিডিওটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নয়। তাদের তথ্যমতে, পঞ্চগড় ও ঢাকার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মূল ছবি, ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের উচ্চ রেজল্যুশনের কপি একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করে কনটেন্টগুলো এআই-নির্মিত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে থাকা নারী পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালের জুনে জন্ম নেওয়া ওই নারীর পড়াশোনার দায়িত্ব ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা নারী প্রতিমন্ত্রীকে ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করতেন এবং প্রতিমন্ত্রী তাকে ‘দিদি’ বলে ডাকতেন। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর দাবি, ওই নারী সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চেয়েছিলেন বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও তার ঘনিষ্ঠ নেতারা দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে প্রতিপক্ষ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে দ্য ডিসেন্ট তাদের অনুসন্ধানে এ দাবি সমর্থন করার মতো কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে।
এছাড়া ভিডিও প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর দাবি, নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, পদ থেকে অপসারণ কিংবা কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ভিডিওটির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।


