
নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে কারচুপি বা ভোট চুরির চেষ্টা হলে গোটা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
রাকিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনগুলো এখন নির্দিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। আমরা ঢাবিতে যেমনটা দেখেছি, এখন রাকসু ও চাকসুতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ছাত্রদল কখনো অন্যায়ের কাছে নত হয় না। কোনো ভোট চুরি বা কারচুপি আমরা মেনে নেব না।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে ছাত্রশিবির যেভাবে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চালু করেছিল, এবারও তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তারা ভুলে গেছে, ছাত্রদল দুর্বল নয়। আমরা যদি একবার রাজপথে নামি, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রশিবিরের কোনো স্থান থাকবে না।”
এদিকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (১৫ অক্টোবর)। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচনে ১৩টি প্যানেলের মোট ৯০৮ জন প্রার্থী ২৩২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটারদের কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে দিতে হয় ৪০টি ভোট—এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি ও হল সংসদের ১৪টি পদে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি, যিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।
এছাড়া, জিএস পদে জয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব। তিনি ৮ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে ছাত্রদল প্রার্থী শাফায়াতকে পরাজিত করেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিবের হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাকসু ও চাকসু নির্বাচন ঘিরে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


