
নিজেস্ব প্রতিবেদক :
মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এ বি এম বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২৪ জুলাই আন্দোলনে নিহত দুই ছাত্রনেতা আহাদ ও সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের জামিন করাতে তিনি দলীয় প্যাডে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, যাদের আওয়ামী লীগের পদধারী হিসেবে পরিচিত করা হয়, তাদেরকেই জামায়াতের কর্মী দাবি করে প্রত্যয়ন দিয়েছেন বাকের হোসেন। প্রত্যয়নপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিরা জামায়াতের সাংগঠনিক পরিবারের সদস্য এবং তারা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এরপরই মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন পান।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মাগুরা জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের হোসেনসহ ছাত্রনেতা তাওফিক কালাম অভি, মেহেদী হাসান মামুন ও আতিকুল ইসলাম বলেন, “আহাদ-সুমন শহীদের হত্যাকারীদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। জেলা জামায়াতের আমির কীভাবে এজাহারভুক্ত আসামিদের বৈধতা দিলেন, তা আমাদের অজানা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
শহীদ আহাদের চাচা ইউপি সদস্য মো. ইয়াকুব আলী বলেন, “আমার ভাতিজা জনতার আন্দোলনে শহীদ হয়েছে। তার রক্তের সঙ্গে এমন বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জেলা জামায়াত আমিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দলীয় প্যাড ব্যবহার করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা।”
অভিযোগের বিষয়ে জেলা জামায়াত আমির এ বি এম বাকের হোসেন বলেন, “অনেকেই আমার কাছে প্রত্যয়ন নিতে আসে। আমার কাছে তথ্য গোপন করে এই প্রত্যয়নপত্রটি নেওয়া হয়েছে। আমি জানতাম না তারা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার আসামি।”


