
যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের পুলেরহাট বাজারে গরুর মাংস কেনাকে কেন্দ্র করে দাম নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, জখম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দোকানকর্মীসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. হাফিজুর রহমান (৩২)।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তারিখে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো. হাফিজুর রহমান যশোর সদর উপজেলার ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল লতিফ মণ্ডল এবং মায়ের নাম মনোয়ারা বেগম।
লিখিত অভিযোগে হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ৯ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে পুলেরহাট বাজারে মফিজুর কসাইয়ের দোকানে গরুর মাংস কিনতে যান তিনি। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি মাংস কেনার পর দাম নিয়ে দোকানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দোকানকর্মী মো. সুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজন তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে তাঁরা একত্র হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন হাফিজুর রহমান।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের সময় তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং পায়ে জখম হয়। এ ছাড়া তাঁর পরনের জামা ও ফুলপ্যান্ট টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেছেন তিনি।
হাফিজুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মো. হাসানুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. মোস্তফা আলী ও মোছা. বিলকিস আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করতে না পারায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। পাশাপাশি মামলা করলে তাঁকে পুনরায় মারধর ও মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।




