
শার্শা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রায় পনের বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাশায় শার্শা উপজেলার তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে আলোচনা ও আগ্রহ। এই প্রেক্ষাপটে ৮৫ যশোর-১ (শার্শা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমানের মনোনয়নপত্র উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মনোনয়নপত্র উত্তোলনের সময় মাওলানা আজীজুর রহমানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শার্শা আসনের নির্বাচন পরিচালক মাস্টার রেজাউল করিম, শার্শা উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হাসান, বেনাপোল থানা আমির রেজাউল ইসলামসহ থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও স্লোগানে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শার্শার প্রতিটি অলিগলি ও হাটবাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন মাওলানা আজীজুর রহমান। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু একজন দলীয় প্রার্থী নন, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন।
মনোনয়নপত্র উত্তোলন উপলক্ষে প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা আজীজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়। আমরা মানুষের মন জয় করতে নির্বাচনের আগেই সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীরা এখন সুসংগঠিত ও সক্রিয়। তার নেতৃত্বে শার্শা এলাকায় যে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে উঠেছে, তা গত এক দশকের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক সুদৃঢ়। দলীয় দুঃসময়েও মাঠ ছেড়ে না যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে তার প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা বেড়েছে।
স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে নেতাকর্মীরা জানান, যশোর-১ আসনের রাজনীতি কেবল আদর্শিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিবছর বন্যায় কৃষকদের ফসলহানি, কর্মসংস্থানহীন যুবসমাজ, ভাঙাচোরা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক দশকে এসব সমস্যা সমাধানে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাওলানা আজীজুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারের মূল উপজীব্য এসব মৌলিক সমস্যা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে বেনাপোল স্থলবন্দরের দুর্নীতি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার নিম্নমান, সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই একমাত্র পথ।
মনোনয়নপত্র উত্তোলনের এই ঘটনাকে ঘিরে শার্শা উপজেলার রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এই নির্বাচনে ভোটাররাই হবে চূড়ান্ত নির্ণায়ক। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই যাত্রা যশোর-১ (শার্শা) আসনে একটি নতুন ভোরের বার্তা দিচ্ছে—যেখানে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারই হবে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।


