
অনলাইন ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যশোরের শার্শায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলম গাজী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) সকালে শার্শার সরুপদাহ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
একের পর এক শিশুদের ওপর এমন নির্মম ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা ইউনিসেফও এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”
লোভ দেখিয়ে টং ঘরে নির্যাতন, চিৎকার শুনে উদ্ধার
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে শিশুটিকে ‘কাঠি ভাজা’ খাওনোর লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন টং ঘরে নিয়ে যায় প্রতিবেশী জহুর গাজীর ছেলে আলম গাজী। সেখানে সে শিশুটির ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নেমে অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান:
“পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। রাতেই মূল অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”পল্লবীর রামিসা হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও দগদগে
শার্শার এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই গত সপ্তাহে রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গত ১৯ মে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তের পর পুলিশ জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে অপরাধ ঢাকতে তাকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা চালায় সে।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাতক সোহেল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। তার মধ্যেই শার্শায় ঘটে যাওয়া এই নতুন ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।


