
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও বিভিন্ন কৌশলে প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে কিছু সুস্থ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই সুবিধা ভোগ করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহিনীকাঠি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ গাজীর ছেলে শাহাজাহান, শাহাজাহানের মেয়ে সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের মেয়ে সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের মেয়ে ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের ছেলে উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং তাদের ছেলে রাফিদসহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নিজেদের শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ভাতা পাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। এনামুল বলেন, তার পায়ের গোড়ালিতে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, পড়ে গিয়ে তার কোমরে ব্যথা হয়েছে এবং তার স্বামী ও সন্তানেরও শারীরিক সমস্যা রয়েছে।
শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদি সখিনা বেগম বলেন, শাহাজাহানের চোখে সমস্যা রয়েছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারত না। একইভাবে উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা বেগম দাবি করেন, উকিল মিয়া ও সাগরের চোখের সমস্যার কারণে তারা ভাতা পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আগেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা গ্রহণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রকৃত প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অযোগ্য ব্যক্তিদের ভাতার আওতায় আনা হলে সরকারি অর্থের অপচয় হয় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


