
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, দেশের জনগণ আর বৈষম্যমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “বর্তমান ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে জনগণের একটি বৃহৎ অংশ প্রতিনিধিত্বহীন থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি গ্রহণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই— সরকার যদি জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই এর চূড়ান্ত সমাধান করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ওয়াসা মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় ৫ দফা দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে।
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সংসদে আসন পাবে তাদের মোট ভোটের আনুপাতিক হারে। এতে কোনো ভোট নষ্ট হবে না এবং ছোট-বড় সব দলই জনগণের প্রকৃত সমর্থনের অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব পাবে। “এটি কেবল ন্যায়সংগত নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য,” তিনি যোগ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অল্পসংখ্যক ভোট পেয়ে অনেক সময় কোনো দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, আর প্রকৃত জনপ্রিয়তা থাকা দলগুলো সংসদের বাইরে থেকে যায়। “এই অবিচার যতদিন থাকবে, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না,” বলেন তিনি।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং পরিচালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস এম লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দিতে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণভোট আয়োজনের পূর্বনজির রয়েছে— ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া, ১৯৮৫ সালে এরশাদ এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া গণভোট আয়োজন করেছিলেন। “ডক্ট্রিন অব নেসেসিটি” বা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রভিশনাল সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দেওয়া সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


