
নিজেস্ব প্রতিনিধি :
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। একসময় জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটি আবারও মাঠ পুনর্দখলের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অপরদিকে, আগে কখনো আসনটি দখলে নিতে না পারা বিএনপি এবার মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রভাব বিস্তারে।
সবুজ ধানক্ষেত, নদী-নালা আর বিল-বাওড়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা যশোর-২ আসনটি সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। মাঠে এখন নীরবে তৃণমূলে সংগঠন গোছাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠন পুনর্গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।
এই আসনটি ৮০ ও ৯০ এর দশকে জামায়াতের অন্যতম ঘাঁটি ছিল। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মোঃ মকবুল হোসেন প্রথমবার নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই দল থেকে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন সংসদ সদস্য হন।
মনোনয়ন যুদ্ধে ব্যস্ত বিএনপি
বিএনপি এবার আসনটি নিজেদের ঘরে তুলতে বদ্ধপরিকর। দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
মোছাঃ সাবিরা নাজমুল মুন্নী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
মোঃ মিজানুর রহমান খান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এ্যাড. মুহাম্মদ ইসহাক, যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।
মোঃ জহুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি, চৌগাছা উপজেলা বিএনপি।
মোঃ মর্তুজা ইলাহী টিপু, সাবেক সভাপতি, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি।
মোঃ ইমরান হাসান নিপুণ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি।
মাঠে সক্রিয় এবি পার্টিও
অন্যদিকে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-ও পিছিয়ে নেই। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মোঃ রিপন মাহমুদ ঈগল মার্কা নিয়ে এলাকায় তৃণমূলে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
ভোটের মাঠে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা?
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোর-২ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আওয়ামী লীগও শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে থাকলেও বিরোধী দুই দলের তৎপরতায় নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে।
তারা বলছেন, “যশোর-২ আসনটি এবার হবে সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ আসনগুলোর একটি। মাঠে যে যার অবস্থান শক্ত করতে এখন থেকেই ব্যস্ত।”
তৃণমূলে চলছে গণসংযোগ
ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তারা।
সবমিলিয়ে যশোর-২ আসন এখন নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


